
‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত রংপুর-১ আসনে এনসিপির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, জনমনে তীব্র ক্ষোভ !
ডেক্স রিপোর্ট; দৈনিক গঙ্গাধ্বনিঃ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর ১০ অঞ্চলে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের কাছে পরিচিত মুখ আব্দুল মুনঈমকে রংপুর-১ (গংগাচড়া ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন আংশিক) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বঞ্চিত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বর্তমানে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য। দলের জন্য ত্যাগী ও যোগ্য দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও তাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ (আ’লীগ) এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) ‘চিহ্নিত দোসর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে এনসিপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে।
(ছবিঃ ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন ছাত্রসমাজ এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুন)
ত্যাগী নেতার প্রতি অবমূল্যায়নঃ
আব্দুল মুনঈম তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয়তা এবং গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কারণে রংপুর-১ আসনের এনসিপি কর্মীদের এবং আপামর জনগণের মাঝে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। সচেতন মহল মনে করে, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং গণআন্দোলনের একজন নেতাকে এভাবে মনোনয়ন বঞ্চিত করা দলের অভ্যন্তরে তাঁর প্রতি ‘অবমূল্যায়নের’ শামিল।

(ছবিঃ ‘২৪ গণঅভ্যুত্থান এর নিখাদ যোদ্ধা এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মুনঈম)
স্বৈরাচার-দোসরকে মনোনয়নঃ
‘মেটিক্যুলাস ডিজাইনের’ অভিযোগ
এনসিপির এই সিদ্ধান্তের ফলে রংপুর-১ আসনের জনগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তাদের অভিযোগ, আব্দুল্লাহ আল মামুন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে এসেছেন এবং তাঁকে ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সচেতন মহলের প্রশ্ন, কেন এনসিপি একজন ত্যাগী নেতার বদলে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলো ? কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, এটি একটি ‘মেটিক্যুলাস ডিজাইন’ যার মাধ্যমে সক্রিয় ও নিবেদিত নেতাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, আল মামুন রংপুর জেলার এনসিপিতে সাম্প্রতিক সময়ে আহ্বায়ক হিসাবে যুক্ত হয়েছে।
মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে আব্দুল মুনঈম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি। তবে দলের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দলের ভেতরের অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই পদক্ষেপ তাদের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদি একটি দল তার সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দলের জনভিত্তি এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেবে। রংপুর-১ আসনে এই ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব নির্বাচনে দলের ফলাফলের ওপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
![]()
Leave a Reply