
নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা নেই: সাভারে কিশোর গ্যাংয়ের আতশবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
ডেক্স রিপোর্ট; দৈনিক গঙ্গাধ্বনিঃ
সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের নজরদারি উপেক্ষা করে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। থার্টি ফার্স্ট নাইট ও নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চশব্দে আতশবাজি ও পটকা ফুটিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তারা।
গতরাত ১২টা বাজার আগে থেকেই রেডিও কলোনি এলাকার বিভিন্ন অলিতে-গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সাথে সাথেই শুরু হয় বিকট শব্দের আতশবাজি ও পটকা বিস্ফোরণ।
সাভারের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা রেডিও কলোনিতে রাতভর চলা এই বিকট শব্দের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটকার বিকট শব্দে অনেক শিশু আতঙ্কে ঘুম থেকে জেগে কেঁদে উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছিল।
এলাকার একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, “সরকার থেকে স্পষ্টভাবে আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু এই কিশোররা আইনের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। তাদের গ্যাং কালচারের কারণে সাধারণ মানুষের শান্তিতে ঘুমানোর উপায় নেই। বিকট শব্দে মনে হচ্ছিল কানের পর্দা ফেটে যাবে।”
ডিএমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবাধে আতশবাজি ও পটকা বিক্রি ও ব্যবহারের এরূপ অবস্থা। স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে এই তাণ্ডব চালায়। উচ্চশব্দে প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে চুপ থাকতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সাভারের রেডিও কলোনি ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পটকা বিক্রির উৎসগুলো বন্ধ না করলে এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই উপদ্রব আরও বাড়বে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অত্র এলাকার সচেতন মহল।
![]()
Leave a Reply