
ক্ষমতাশালীদের প্রভাব ও সৎ সাংবাদিকতার সংকট: গণমাধ্যমকে স্বাধীন রাখতে দরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সহায়তা।
এস এম মামুন; মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সমাজের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর প্রভাব ও চাপের মুখে গণমাধ্যমকে প্রায়ই সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। সুযোগ-সুবিধা দিয়ে হোক কিংবা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে—বিভিন্ন সময়েই গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ উঠে আসে।
দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষকদের দাবি, যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের মতাদর্শের ব্যক্তিরাই প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে আসেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের খুশি রাখার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীন মত প্রকাশ ব্যাহত হয়।
একজন সৎ সাংবাদিকের অস্ত্র শুধু তার কলম। অপরদিকে সমাজের যেসব গোষ্ঠী অন্যায়, দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে জড়িত—তাদের কাছে থাকে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক সহায়তা এবং কখনো কখনো অস্ত্রশস্ত্রও। ফলে সত্যের পথে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা প্রায়ই জীবন-ঝুঁকির মুখোমুখি হন। অনেক সাংবাদিকই হুমকি, হামলা এমনকি মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকেন।
মুখে বড় বড় কথা বলা হলেও বাস্তবে সৎ সাংবাদিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন—এমন বক্তব্য প্রায় সকল সচেতন মহলের। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকতা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তথ্য সংগ্রহের সময় যেকোনো মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও সৎ রাখতে হলে শুধু নীতিমালা নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, হয়রানির দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সাংবাদিক সংগঠন ও ক্লাব গঠনও সময়ের দাবি।
গণতন্ত্র সুসংহত করতে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অপরিহার্য। আর সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
![]()
Leave a Reply