1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. daily.gangadhoni@gmail.com : gangadhoni :
ফয়সাল আকবর এর কলামঃ আমাদের প্রয়োজন আরেকজন মওলানা ভাসানী | Daily gangadhoni
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
তরুণ মডেল জিহাদ জীমে কাকে নিয়ে যাচ্ছেন, নেটিজেনদের আগ্রহ সাভারের বলিয়ারপুর স্ট্যান্ডে উদ্ভোধন হলো রিজিক অর্গানিক ঐতিহ্যবাহী পাকুড়িয়া শরীফে মাদক বিরোধী আন্তঃ রংপুর বিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত আবেদনময়ী লুকে চিত্রনায়িকা ভাবনা সাভারে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিশোর গ্যাং সদস্যদের পটকা ও আতশবাজি ফোটানো বিশম্ভরপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনিক অভিযান নিজ এলাকায় গিয়ে খেঁজুর রসের আড্ডায় এনসিপি নেতা আব্দুল মুনঈম দেওয়ানগঞ্জে যুবদলের যুব সমাবেশ সাভারে তরুণী উত্যক্ত করার প্রতিবাদে দোকান ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

ফয়সাল আকবর এর কলামঃ আমাদের প্রয়োজন আরেকজন মওলানা ভাসানী

পূজা চক্রবর্তী, বার্তা সম্পাদক
  • Update Time : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩২৩ Time View

১৯৭০ সালে কাগমারী আন্দোলনে যিনি সর্বপ্রথম স্বাধীনতার প্রথম ডাক দেন তিনি মওলানা ভাসানী।

‘মওলানার টুপিওয়ালা উঁচু মাথাটি যেন এক হারিয়ে যাওয়া পর্বতের স্মৃতি’। কবি আল মাহমুদের এই টুপিওয়ালা উঁচু মাথাটি নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর এই মহান মানুষটি চিরতরে পরপারে পাড়ি জমান। মওলানা ভাসানী বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশবিরোধী গণআন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির অন্যতম নেতা এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা—সে মহান ব্যক্তিত্বের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। মওলানা ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের সয়া-ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী শরাফত আলী খাঁ, মাতার নাম মজিরন বিবি। ডাক নাম চেগা মিয়া। শিশু বয়সে মারা যান তাঁর বাবা। এর কিছুদিন পর মহামারীতে মা। এরপর কালের অগ্রযাত্রায় চেগা মিয়াই একদিন ইতিহাসের নক্ষত্র হয়ে ওঠেন।

ভাসানীর জীবন-যাপন ছিল একবারেই সাদামাটা। বলা যায়, একদম মাটির মানুষ ছিলেন তিনি। জীবনে অনেকেই তাঁকে জিজ্ঞেস করেছেন তার নামের আগে মওলানা কেন, ব্যক্তি বুঝে তিনি জবাব দিতেন। একবার মাদ্রাসা থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত একজন মওলানা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হুজুর, আপনিও মওলানা, আমরাও মওলানা; আমাদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? তিনি মুহূর্তের মধ্যে বললেন, ‘তোমরা সেই মওলানা যারা দূরে শয়তান দেখলে ‘লা হাওলা ওলা’ পড়, আমরা সেই মওলানা যারা শয়তানকে আগে কাছে ডাকি তারপর শয়তানের ঘাড়ের ওপর সওয়ার হয়ে শয়তানকে দিয়ে আমাদের কাজ করায়ে নেই।’ কবি আবদুল হাই শিকদার তাঁর “জানা-অজানা মওলানা ভাসানী” গ্রন্থে লিখেছেন, আবদুল হামিদ খান যে গ্রামে বাস করতেন সে গ্রামের নাম ছিল ভাসানের চর। দশ সহস্রাধিক অধিবাসী সংবলিত এ গ্রামের সবাই ছিলেন মওলানার ভক্ত-মুরীদান। গ্রামবাসী দিন দিন মওলানা সাহেবের সুনাম, যশ ও ব্যাপক পরিচিতি লক্ষ করে গর্বিত হতে থাকে, কারণ মওলানা তাদের গ্রামের বাসিন্দা। এরপরে ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ি জেলার ভাসান চরে এক কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন গ্রামের সবাই মিলে মওলানাকে ধরে বসেন এই বলে যে, তার নামের সঙ্গে গ্রামের নামটি জুড়ে দিতে হবে। তখন থেকে তাঁর নামের সাথে যুক্ত হয়ে যায় ‘ভাসানী’।

ভাসানীর রাজনৈতিক ধারা ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব; উপমহাদেশের প্রচলিত কোনো প্রধান রাজনৈতিক ধারাকে তিনি অনুসরণ করেননি। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি বামপন্থী কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর অনুসারীরা তাঁকে প্রায়ই ‘লাল মওলানা’ নামে অভিহিত করতেন। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন এবং অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তবে ১৯২৬ সালে আসামে কৃষক প্রজা পার্টির আন্দোলনের সূচনা তাঁর কৃষকনেতা হিসেবে উদ্ভাসিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে। ভাসানীর রাজনৈতিক চেতনায় দারুল উলুম দেওবন্দের প্রভাবও গভীরভাবে লক্ষ্য করা যায়। ফলে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে এক অনন্য সমন্বয়ে পাশাপাশি অবস্থান করেছে কমিউনিজম ও ইসলামি আদর্শ। একদিকে তিনি দীর্ঘদিন কমিউনিস্টদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, অন্যদিকে নিজের ঈমান–আকিদার সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস করেননি।

১৯৪৭ সালে মওলানা ভাসানী আসাম থেকে পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হওয়ার পর প্রথম সবচেয়ে বড় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালের অক্টোবরে ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে। তৎকালীন সরকার সেই জনসভা পণ্ড করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে জনতার ভেতর থেকে একদল লোক হৈ চৈ শুরু করে। তখন সভাপতির আসন থেকে উঠে এসে মওলানা ভাসানী মাইকের সামনে দাঁড়ান। বলেন, ভাইয়ো, সরকার আমাদের সভা পণ্ড করতে চায়। এ অবস্থায় আমরা সভা করব না। আপনারা শান্ত হয়ে যার যার জায়গায় দাঁড়ান। আমরা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে সভা শেষ করব। এই কথা বলেই মওলানা ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ বলে মোনাজাত শুরু করলেন। সভার সব শ্রোতাও হাত তুলে ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ বলে দাঁড়িয়ে যায়। সৈয়দ আবুল মকসুদ ‘ভাসানী কাহিনী: এক ঘণ্টার মোনাজাত’ প্রবেন্ধ বলেছেন, মোনাজাতকারীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ হিন্দু এবং কমিউনিস্ট ছিল। মওলানা আরবিতে দুয়েকটি মোনাজাতের দোয়া পাঠ করেই বলতে থাকেন: ‘হে দীন দুনিয়ার মালিক পরওয়ারদেগার, জালেমের অত্যাচার থেকে তুমি মজলুমকে রক্ষা করো।’ মোনাজাতে পরকালের কোনো কথা ছিল না। ছিল সরকারের অন্যায়-অবিচার ও জুলুমের কথা। তা থেকে মুক্তির জন্য জেহাদ ঘোষণার কথা। মাঝে মাঝেই শ্রোতা-মোনাজাতকারীরা ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ বলতে থাকেন। কিন্তু মোনাজাত আর শেষ হয় না। মোনাজাতের মধ্যেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও ইতিহাস বর্ণনা করা হয়। পাকিস্তানের দুই বছরের অন্যায়-অত্যাচারের বর্ণনা দেওয়া হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ইসলামের শিক্ষা—তাও বলা হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মোনাজাত চলে। সমাবেশে তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতায় মওলানা যা বলতেন, মোনাজাতে সে কথাগুলোই বললেন। মোনাজাতে গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশের বিশেষ শাখার লোকেরা হাত তুলে অংশ নেওয়ায় সেদিন তারাও ভাসানীর ‘বক্তৃতা’র কোনো নোট নিতে পারেননি।

পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত মন্তব্য ও পূর্ব বাংলাবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা করার মধ্য দিয়ে মওলানা ভাসানীর সরকারবিরোধী ভূমিকা শুরু হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় এক জনসভায় খাজা নাজিমউদ্দিন মওলানা ভাসানীকে ‘ভারতের চর’ আখ্যায়িত করে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে ঘোষণা দেন। খাজা নাজিমউদ্দিনের রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। ৪০ সদস্যবিশিষ্ট সেই কমিটির এক নম্বর সদস্য ছিলেন মওলানা ভাসানী। তিনি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সফরে ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণ ও ছাত্রহত্যার খবর জেনেই ঢাকায় চলে আসেন এবং পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশ নেন।

সময়ের প্রয়োজন আজ মওলানা ভাসানীর মতো নেতৃত্বের আবশ্যকীয় প্রয়োজন।

লেখকঃ লেখক ও কলামিস্ট, গবেষক (এম.ফিল), সাবেক শিক্ষার্থী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Loading

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
All rights reserved © 2025
Themes By ShimantoIT.com