1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. daily.gangadhoni@gmail.com : gangadhoni :
লালন সাঁইয়ের মানবতত্ত্ব | Daily gangadhoni
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
তরুণ মডেল জিহাদ জীমে কাকে নিয়ে যাচ্ছেন, নেটিজেনদের আগ্রহ সাভারের বলিয়ারপুর স্ট্যান্ডে উদ্ভোধন হলো রিজিক অর্গানিক ঐতিহ্যবাহী পাকুড়িয়া শরীফে মাদক বিরোধী আন্তঃ রংপুর বিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত আবেদনময়ী লুকে চিত্রনায়িকা ভাবনা সাভারে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিশোর গ্যাং সদস্যদের পটকা ও আতশবাজি ফোটানো বিশম্ভরপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনিক অভিযান নিজ এলাকায় গিয়ে খেঁজুর রসের আড্ডায় এনসিপি নেতা আব্দুল মুনঈম দেওয়ানগঞ্জে যুবদলের যুব সমাবেশ সাভারে তরুণী উত্যক্ত করার প্রতিবাদে দোকান ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

লালন সাঁইয়ের মানবতত্ত্ব

পূজা চক্রবর্তী, বার্তা সম্পাদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪৮ Time View

মানবই শ্রেষ্ঠ সাধন। মানবের মাঝেই কেবলমাত্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়।

লালন ফকিরের দর্শনে মানব দেহকে একটি পবিত্র মন্দির বা ‘খাঁচা’ হিসেবে দেখা হয়, যার মধ্যে পরমাত্মা বা ‘মনের মানুষ’ অবস্থান করে। তাঁর কাছে মানুষই হলো এই মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র প্রতিরূপ এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মূল কেন্দ্র।

১. দেহতত্ত্ব বা কায়াসাধন
লালন তাঁর গানে প্রায়শই মানবদেহকে সাধনার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, ব্রহ্মাণ্ডের সকল রহস্য দেহের ভেতরেই নিহিত। দেহের ভেতরেই ‘মনের মানুষ’ বা সেই অজানা অচিন পাখি বাস করে। বাইরের উপাসনার চেয়ে নিজের দেহকে জানা এবং এর ভেতরের সত্তাকে অনুভব করাই প্রকৃত ধর্ম।

“সহজ মানুষ ভজে দেখ না রে মন দিব্য জ্ঞানে। ও সে মানুষে মানুষে হয় যে লীলে, মানুষ সে তো ভজে মানুষে…”

২. ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা ও ভেদাভেদহীনতা
লালনের মানবতত্ত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো ধর্মীয় বিভাজনকে প্রত্যাখ্যান করা। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গভিত্তিক সকল ভেদাভেদকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন। তাঁর কাছে মনুষ্য ধর্মই একমাত্র ধর্ম।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে একজন মানুষ জন্মগ্রহণের পর কিভাবে কেবল বাহ্যিক চিহ্নের মাধ্যমে হিন্দু বা মুসলমান হিসেবে পরিচিত হয়, যেখানে সৃষ্টির মূলে সবাই এক।

“সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে? লালন বলে, জাতের কি রূপ দেখলাম না এই নজরে।”

৩. মনের মানুষ বা অচিন পাখি
লালনের গানে ‘মনের মানুষ’ বা ‘অচিন পাখি’ একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। এই ‘মনের মানুষ’ হলো প্রতিটি মানুষের ভেতরে থাকা ঐশ্বরিক সত্তা বা আত্মার প্রতীক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেব-দেবী নয়, বরং সেই নিরুদ্দেশ প্রেম বা সত্য, যা আত্ম-অনুসন্ধানের মাধ্যমে লাভ করা যায়। এই সত্যকে খুঁজে বের করাই মানবজীবনের প্রধান লক্ষ্য।

৪. গুরুবাদ ও প্রেম
সত্যকে জানার জন্য লালন গুরু বা মুর্শিদকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। গুরু হলেন পথপ্রদর্শক, যিনি সাধনপথে শিষ্যকে ‘মনের মানুষ’-এর সন্ধান দেন। এই সাধনা বাহ্যিক শাস্ত্রপাঠের চেয়ে প্রেম ও আবেগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গুরুর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা—এগুলোই তাঁর মতে মুক্তির পথ।

৫. মরণোত্তর জিজ্ঞাসার উর্ধ্বে জীবনবোধ
লালন পরকাল বা স্বর্গ-নরকের ধারণার চেয়ে এই বর্তমান জীবনের সত্য উপলব্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, যে সত্য এই জীবনে উপলব্ধি করা গেল না, তা মরণের পরে অধরা থেকে যাবে। তাই মানুষকে বর্তমান জীবনেই নিজেকে জানা ও প্রেমময় হওয়ার সাধনা করতে হবে।

লালন সাঁইয়ের মানবতত্ত্ব তাই কোনো মূর্তিপূজা বা বাহ্যিক আচারের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি সার্বজনীন, দেহকেন্দ্রিক এবং প্রেমভিত্তিক দর্শন, যা মানুষকে তার ভেতরের ঐশ্বরিক সত্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানায়। এই দর্শনে মানুষ তার ভেতরের সত্যকে আবিষ্কারের মাধ্যমেই ঈশ্বরকে খুঁজে পায়।

লেখকঃ বিবাগী রানা (নাট্য অভিনেতা, নাট্য পরিচালক ও লালন গবেষক)

Loading

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
All rights reserved © 2025
Themes By ShimantoIT.com