
আগামীকাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: জাবি ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন সম্পন্ন।
মো: শাকিল হোসাইন; জাবি (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আগামী ৫ ডিসেম্বর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘শহীদ কামরুল ইসলাম ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ২০২৫’। বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির নেতারা।
বিভাগভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসায় সমৃদ্ধ আয়োজন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের ক্যাম্পে ৩০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা প্রদান করবেন। ইতোমধ্যে ৩৫৩২ জন শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পে সেবা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
বিভাগভিত্তিক নিবন্ধনের সংখ্যা নিম্নরূপ—
মেডিসিন: ৫১৮ জন
সাইকিয়াট্রি: ২৮০ জন
গাইনি: ২৪১ জন
চর্ম ও যৌন রোগ: ৬৪৫ জন
নাক-কান-গলা: ৪০০ জন
সার্জারি: ৭২ জন
চক্ষু: ৫৭৭ জন
অর্থোপেডিক্স: ১৭৫ জন
ডেন্টাল: ৪২২ জন
অন্যান্য বিভাগ: ২০২ জন
নেতারা জানান, গত বছর আইটিএ-ছাত্রশিবির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘আশ-শিফা ফ্রি হেলথ ক্যাম্প’-এ শিক্ষার্থীদের বেসিক চেকআপে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবারের ক্যাম্পে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আরও বিস্তৃত, বিভাগভিত্তিক বিশেষজ্ঞ সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ফেরা
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন,
“বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গঠনে কাজ করে আসছে। ৩৫ বছর সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম অযাচিত বাধায় বন্ধ থাকলেও, গত বছর ২৯ অক্টোবর বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একের পর এক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তনের বাতাস
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।
অনেক শিক্ষার্থী বলেন,
“রাজনীতি বা মতাদর্শ যাই হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনেরই উচিত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সচেতনতা ও মানবিক সহায়তা— এসব জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাড়ানো। এতে শিক্ষার্থীদের উপকার হয়, এবং ক্যাম্পাস আরও মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে ওঠে।”
তাঁরা আরও জানান, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির বদলে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বাড়লে সংগঠনগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা বাড়ে এবং শান্তিপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
![]()
Leave a Reply