
জাবিতে শেখ পরিবারের নামে থাকা চারটি হলের নাম পরিবর্তন।
মো: শাকিল হোসাইন; জাবি (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা চারটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেখ পরিবারের চার সদস্যের নামে থাকা হলগুলো নতুন নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে।
পরিবর্তিত হলগুলোর নতুন নামঃ
‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ এখন থেকে ‘শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল’ নামে পরিচিত হবে।
১০ তলা বিশিষ্ট ‘শেখ রাসেল হল’-এর নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘নবাব সলিমুল্লাহ হল’।
‘শেখ হাসিনা হল’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘জুলাই চব্বিশ জাগরণী হল’।
‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’-এর নতুন নাম করা হয়েছে ‘শহীদ ফেলানী খাতুন হল’।
রেজিস্ট্রার জানান, সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবিলম্বে নতুন নাম কার্যকর করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মতামত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক, সময়োপযোগী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ভূগোল বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন,
“জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হলো গণতান্ত্রিক চর্চার জায়গা। এখানে কোনো স্বৈরাচারী ইতিহাস বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধিপত্যের চিহ্ন থাকা উচিত নয়।”
আরেকজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন—
“‘জুলাই চব্বিশ’-এর তরুণ আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে—অন্যায়কে স্বাভাবিক করতে নেই। হলগুলোর নাম পরিবর্তন সেই চেতনার প্রতিফলন।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান,
“রাজনৈতিক পরিবারের নামে ধারাবাহিকভাবে চারটি হল থাকা ছিল কর্তৃত্ববাদী চর্চার প্রতীক। এখনকার নামগুলো ইতিহাস, সংগ্রাম ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে।”
একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন—
“জুলাইয়ের চেতনাই দেখিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ জনগণের; কোনো পরিবারের নয়। নতুন নামগুলো সেই বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।”
জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের মন্তব্য
“জুলাই চব্বিশ আমাদের শিখিয়েছে—যেখানে অন্যায়, সেখানেই প্রতিরোধ।”
“নতুন নামগুলো জাবির মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।”
“হলগুলো এখন ব্যক্তিজীবন নয়, ইতিহাস ও সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করবে—এটাই আমাদের চাওয়া।”
![]()
Leave a Reply