
মানবিক উদ্যোগে লিও ক্লাব: জাবি ক্যাম্পাসে শীতবস্ত্র পেল অসহায় মানুষ।
মো: শাকিল হোসাইন; জাবি (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে লিও ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ওয়ান প্লাস। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
লিও ক্লাব হলো লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের একটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন, যা তরুণদের নেতৃত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে। সংগঠনের সদস্যরা দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
লিও ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ওয়ান প্লাসের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আতাউল্লাহ আল মাহমুদ বলেন,
“লিও ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ান প্লাস কেবল একটি সংগঠন নয়; এটি মানবিকতা, নেতৃত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবার প্রতিশ্রুতি। একজন লিও হিসেবে আমরা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করি। ইচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব—এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি।”
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আহ্বায়ক মো. আরিফ হোসেন বলেন,
“শীত শুধু একটি ঋতু নয়—এটি অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কষ্ট ও অনিশ্চয়তার সময়। সামান্য উষ্ণতা ও সহানুভূতি তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। শীতবস্ত্র শুধু কাপড় নয়, এটি আমাদের ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রতীক। এ কার্যক্রম সফল করতে সহযোগিতা করায় উপদেষ্টা, অতিথি, দাতা ও সকল লিও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”
উল্লেখ্য, লিও ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ওয়ান প্লাস প্রতিবছর দক্ষতা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, অভ্যন্তরীণ ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন এবং বৃক্ষরোপণসহ নানামুখী সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারক এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে বহুমাত্রিক ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করে। প্রথমত, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, নেতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়। এতে তারা শুধু জ্ঞান অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বাস্তব জীবনে দুর্বল শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলে।
দ্বিতীয়ত, এই ধরনের উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাস্তব সহায়তা দেয়, যা সাময়িক কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি তাদের সামাজিক নিরাপত্তার অনুভূতিও বাড়ায়। একই সঙ্গে সমাজে সহমর্মিতা, সহযোগিতা এবং সমতার মূল্যবোধ জোরদার হয়।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক মানবিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সমাজের মধ্যে সংযোগ আরও সুদৃঢ় হয়।
সব মিলিয়ে, লিও ক্লাবের এ উদ্যোগ কেবল একটি শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি নয়—এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত।
![]()
Leave a Reply